কেন্দ্রীয় কার্যালয়

নওদাপাড়া (আম চত্ত্বর), পো. সপুরা, রাজশাহী- ৬২০৩

হটলাইন

+8801797-900123

×

জাতীয় সঙ্গীত স্বাধীনতা বিরোধী শিরকী সঙ্গীত

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ২৫ লাইনের দীর্ঘ কবিতাটির মধ্য প্রথম ১০ লাইন বাংলাদেশের জাতীয় সংগীত হিসাবে গৃহীত হয়েছে। যা শিরক মিশ্রিত। কেননা এর মধ্যে আল্লাহ্র প্রশংসা বাদ দিয়ে ‘মাটিপূজা’ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। যা মূর্তিপূজার শামিল। যা শুনতেও পায়না, দেখতেও পায়না, অনুভবও করেনা। অথচ আমাদের সন্তানরা লেখাপড়ার শুরুতে আল্লাহ্র প্রশংসা করবে ও ‘বিসমিল্লাহ’ বলবে। মাটিকে ‘মা’ বলে তার বন্দনা গাইবে না। কেননা কেবল বাংলাদেশ নয়, বরং পুরা বিশ্ব আল্লাহ্র সৃষ্টি। এখানকার আবহাওয়া-গাছপালা-নদীনালা সবকিছুই আল্লাহ্র সৃষ্টি।
 কিন্তু আল্লাহ্র ভালবাসা ছেড়ে উক্ত সংগীতে বলা হয়েছে, ‘আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি’। ‘চিরদিন তোমার আকাশ, তোমার বাতাস, আমার প্রাণে বাজায় বাঁশি\’ ...মা, তোর বদনখানি মলিন হলে, ও মা, আমি নয়নজলে ভাসি\’
 এ কবিতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছিলেন বৃটিশ সরকারের গৃহীত ‘বঙ্গভঙ্গ’ প্রস্তাবের বিরুদ্ধে। যেখানে পূর্ববঙ্গের প্রশাসনিক সুবিধা ও সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিমদের অবস্থার উন্নয়নের স্বার্থে ঢাকাকে রাজধানী করে ‘পূর্ববঙ্গ ও আসাম’ নামে পৃথক একটি প্রদেশ গঠনের কথা ছিল। উক্ত প্রস্তাবের বিপক্ষে তিনি বাংলাদেশকে ‘মা’ কল্পনা করে দুই বাংলা ভাগ হওয়াকে মায়ের অঙ্গচ্ছেদ (ঠরারংবপঃরড়হ ড়ভ গড়ঃযবৎ) বলে অভিহিত করেছিলেন। কেননা দুই বাংলা পৃথক হ’লে কুষ্টিয়ার শিলাইদহে বসে পূর্ববাংলার কৃষকদের উপরে তার জমিদারী শোষণ বন্ধ হয়ে যেত। তাই যেকোন মূল্যে যেন দুই বাংলা এক থাকে, সেদিকে উদ্বুদ্ধ করার জন্য বাংলা মায়ের বন্দনা গেয়ে তিনি ১৯০৫ সালে উক্ত কবিতা লিখেছিলেন। অতঃপর হিন্দু নেতাদের চরমপন্থী কার্যক্রমে বাধ্য হয়ে বৃটিশ সরকার ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করেন। শুধু তাই নয়, তাদের আন্দোলনের ফলে পূর্ববঙ্গের সংখ্যাগরিষ্ট মুসলমানদের স্বার্থে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ১৯১১ থেকে ১৯২১ সাল পর্যন্ত পিছিয়ে যায়। অতঃপর ১৯৪৭ সালে পুনরায় বঙ্গভঙ্গ হয় এবং মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ পূর্ববঙ্গ ‘পূর্ব পাকিস্তান’ নামে স্বাধীন পাকিস্তানের অংশীভূত হয়। অতঃপর ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানের মানচিত্রের উপর স্বাধীন ‘বাংলাদেশে’র অভ্যুদয় হয়।
 অতএব স্বাধীন বাংলাদেশের ‘আমার সোনার বাংলা’ কবিতার মধ্যে কোন শিক্ষণীয় নেই। বরং এপার বাংলা ওপার বাংলা যুক্ত করে বাংলাদেশকে তার স্বাধীনতা হারিয়ে পুনরায় ভারতভুক্ত হওয়ার দিকে ইঙ্গিত রয়েছে। এর মধ্যে ভারতের জাতীয় সংগীত ‘বন্দে মাতরম’-এর প্রতিধ্বনি রয়েছে (যার অর্থ ‘মাকে বন্দনা করি’)।

 দেশপ্রেম মানুষের সহজাত বিষয়। এটি গান গেয়ে প্রকাশ করার বিষয় নয়। যারা এ গান জানেন না বা এ গান গান না, তাদের মধ্যে কি দেশপ্রেম নেই?

প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ আসাদুল্লাহ আল-গালিব
◼ আমীর, আহলেহাদীছ আন্দোলন বাংলাদেশ।
◼ প্রফেসর (অবঃ), আরবী বিভাগ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ।